বৈধ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন
বিদেশে চাকরির জন্য কেবল বৈধ ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, নিবন্ধন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করুন।
নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব শনাক্তকরণ এবং দালালের প্রতারণা থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদেশে গেলে প্রতারণা, শোষণ ও মানব পাচারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।
বিদেশে চাকরির জন্য কেবল বৈধ ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, নিবন্ধন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করুন।
কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি, থাকা ও চিকিৎসার সুবিধা চুক্তিপত্রে উল্লেখ আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
চাকরির জন্য পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় বিদেশে যাবেন না। আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী বৈধ কর্মসংস্থান ভিসা সংগ্রহ করুন।
যেকোনো ফি ব্যাংক বা অনুমোদিত মাধ্যমে পরিশোধ করুন। প্রতিটি লেনদেনের রসিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশন, দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর সঙ্গে রাখুন।
গন্তব্য, ফ্লাইট, কর্মস্থল, নিয়োগকর্তা ও থাকার ঠিকানার কপি পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যের কাছে রাখুন।
বিদেশযাত্রার আগে নিচের বিষয়গুলো একে একে যাচাই করুন।
পাসপোর্টের মেয়াদ, নাম, জন্মতারিখ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
ভিসার ধরন, মেয়াদ, নিয়োগকর্তা ও কাজের অনুমতির তথ্য আপনার চাকরির চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা নিন।
পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট ও চুক্তিপত্রের কাগজ এবং ডিজিটাল কপি নিজের ও পরিবারের কাছে রাখুন।
গন্তব্য দেশের আইন, সংস্কৃতি, কাজের পরিবেশ, ভাষা ও জরুরি যোগাযোগ সম্পর্কে জেনে নিন।
সমস্যায় পড়লে কোথায় যাবেন, কাকে ফোন করবেন এবং কীভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তা ঠিক করুন।
চাকরির প্রস্তাবে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে সতর্ক হয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করুন।
অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতার তুলনায় অনেক বেশি বেতন ও সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া।
যাচাই করার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানো বা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে বলা।
প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা।
কাজের ধরন, নিয়োগকর্তা, অফিসের ঠিকানা বা থাকার স্থান সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য না দেওয়া।
পরিচিত ব্যক্তি বা স্থানীয় দালালের কথায় বিশ্বাস করে যাচাই ছাড়া টাকা ও কাগজপত্র দেবেন না।
“সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে”, “কোনো কাগজ লাগবে না” বা “পরিচিত লোক আছে”—এ ধরনের কথায় বিশ্বাস করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সবকিছুর লিখিত ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করুন।
প্রয়োজন ছাড়া কোনো ব্যক্তির কাছে মূল পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র বা শিক্ষাগত সনদ রেখে দেবেন না।
নগদ টাকা বা ব্যক্তিগত নম্বরে অর্থ দেওয়ার আগে বৈধ রসিদ ও লেনদেনের উদ্দেশ্য নিশ্চিত করুন।
পরিবার বা অন্য কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করলে বিষয়টি বড় ধরনের সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে।
দালালের দেওয়া ফোন নম্বরের ওপর নির্ভর না করে অফিসিয়াল উৎস থেকে প্রতিষ্ঠান যাচাই করুন।
পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সমাজ সচেতন থাকলে মানব পাচারের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।
পরিবারের কোনো সদস্য চাকরি বা বিদেশযাত্রার সিদ্ধান্ত নিলে তার কাগজপত্র, গন্তব্য ও নিয়োগকর্তার তথ্য একসঙ্গে যাচাই করুন।
শিক্ষার্থীদের মানব পাচার, অনলাইন প্রতারণা, নিরাপদ অভিবাসন এবং সন্দেহজনক চাকরির বিজ্ঞাপন সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করুন।
এলাকার সন্দেহজনক দালাল, নিখোঁজ ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক চলাচল সম্পর্কে দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
সভা, পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাইকৃত প্রতিরোধমূলক তথ্য প্রচার করুন।
প্রতারণা বা পাচারের শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ না করে নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করুন।
সন্দেহজনক ঘটনা বা কেউ বিপদে থাকলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা দায়িত্বশীল সহায়তাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
নিরাপদ সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মনে রাখুন।
নিজে ঝুঁকি নিয়ে কোনো দালাল বা অপরাধীর মুখোমুখি হবেন না। নিরাপদ স্থানে যান, প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা দায়িত্বশীল সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।